ডেস্ক নিউজ:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রস্তাবসমূহ সুস্পষ্টভাবে পেশ করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, একাধিক কারণে জাতিসংঘের এবারের সাধারণ অধিবেশনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এবারের সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ ভয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশ সীমানার ৪০ কিলোমিটার ব্যাপ্তির মধ্যে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব আশ্রয়প্রার্থীর অধিকাংশই নারী, শিশু এবং বয়স্ক। এর আগে প্রায় চার লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বেশির ভাগই কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছে। ফলে লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সঙ্কটের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রস্তাবসমূহ সুস্পষ্টভাবে পেশ করা হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের চলমান অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা আমরা চলমান রাখব।

মন্ত্রী জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু বিষয়ে ওআইসিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় সাম্প্রতিককালে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, নিপীড়ন এবং এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দুর্দশা তুলে ধরবেন এবং সমস্যার আশু সমাধানে মুসলিম উম্মাহর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করবেন।

তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ তুলে ধরে সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবসমূহ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। তিনি অবিলম্বে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাবেন।

মন্ত্রী জানান, মিয়ানমার কতৃক রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিধন অভিযান ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে বিশ্ব নেতাদের যেকোনো গণহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানাবেন। পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরবেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।